আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় রাজশাহী জেলার উপজেলা।
রাজশাহী জেলার উপজেলা:-
গোদাগাড়ী উপজেলা
গোদাগাড়ী বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। একদিকে কীর্তিনাশা পদ্মা আর মহানন্দা অন্যদিকে বিস্তৃত পরিধিতে বরেন্দ্র জনপদ এই গোদাগাড়ী অঞ্চল। গোদাগাড়ী উপজেলা রাজশাহী জেলার পশ্চিমে অবস্থিত। গোদাগাড়ী উত্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও তানোর উপজেলা, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও গঙ্গা নদী, পূর্বে পবা উপজেলা, পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা।[২]
তানোর উপজেলা
তানোর বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। তানোর থানা গঠন করা হয় ১৮৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এবং উপজেলা গঠিত হয় ১৯৮৩ সালে।[২] রাজশাহী জেলা শহর হতে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে বরেন্দ্র ভূমিতে অবস্থিত। এই উপজেলার উত্তরে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা ও মান্দা উপজেলা, দক্ষিণে পবা উপজেলা ও গোদাগাড়ী উপজেলা, পূর্বে মোহনপুর উপজেলা, পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও নাচোল উপজেলা। তানোরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে শিব নদী ।
মোহনপুর উপজেলা
মোহনপুর বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এ উপজেলার উত্তরে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা ও তানোর উপজেলা, দক্ষিণে পবা উপজেলা, পূর্বে বাগমারা উপজেলা ও দূর্গাপুর উপজেলা, পশ্চিমে তানোর উপজেলা।
বাগমারা উপজেলা
বাগমারা উপজেলা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি বৃহৎ উপজেলা। উত্তরবঙ্গ রাজশাহীর এক গৌরব গাঁথা স্থান হচ্ছে বাগমারা উপজেলা। কথিত আছে এখানে এক সময় বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। বনে থাকতো ভয়ঙ্কর যত বাঘ-বাঘিনী। একদিন এক লোককে বাঘে আক্রমণ করলে তিনি তাঁর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সেই বাঘ কে মেরে ফেলেন।
ফলশ্রম্নতিতে এ উপজেলার নামকরণ হয় ‘‘বাগমারা’’। আবার শোনা যায় ব্রিটিশ আমলে বিস্তীর্ণ বন-জঙ্গল কেটে জনবসতি গড়ে উঠায় উপজেলার নামকরণ করা হয় ‘‘বাগমারা’’। এছাড়াও কথিত আছে বর্তমান বাগমারা থানা ভবন জমির উপর বিরাট একটি বাগান ছিল। বাগানটি কেটে থানা ভবণ নির্মাণের কারণেও অঞ্চলটি ‘‘বাগমারা’’ নামে পরিচিতি পায়।
বাগমারার প্রাচীন জায়গা হিসেবে তাহেরপুর দেশ ও বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। জানা যায় বাংলার বার ভূইয়ার অন্যতম তাহের ভূইয়া সদলবলে তাহেরপুর আসেন এবং তাঁর নামানুসারে ‘‘তাহেরপুর’’ নামকরণ হয়। তাহের ভূইয়া ইংরেজ শাসকদের খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইংরেজ সেনাবাহিনী তাহের ভূইয়াকে যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করে রাজা কংস নারায়ন কে খাজনার বিনিময়ে তাহেরপুরের রাজত্ব প্রদান করে।
১৪৮২ সালে রাজা কংস নারায়ন উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করেন। তখন থেকেই প্রতি বছর হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীরা তাদের ধর্মের প্রধান উৎসব হিসেবে শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করে আসছে। বাগমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে। ঐতিহাসিক স্থানের মধ্যে তাহেরপুর এবং বীরকুৎসা উল্লেখযোগ্য ।
দুর্গাপুর উপজেলা, রাজশাহী
দুর্গাপুর বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলা রাজশাহী জেলা হতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরত্বে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। দুর্গাপুর উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত, যার আয়তন ১৯৫.০৩ বর্গ কিমি। দুর্গাপুর উপজেলার উত্তরে বাগমারা উপজেলা ও মোহনপুর উপজেলা, দক্ষিণ ও পূর্বে পুঠিয়া উপজেলা, পশ্চিমে পবা উপজেলা।
বাঘা উপজেলা
বাঘা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলার উত্তরে চারঘাট উপজেলা ও নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা, পূর্বে নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা ও বাগাতিপাড়া উপজেলা, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও পদ্মা নদী।
চারঘাট উপজেলা
চারঘাট বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এই উপজেলার উত্তরে পবা উপজেলা ও পুঠিয়া উপজেলা ও দক্ষিণে বাঘা উপজেলা, পূর্বে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলা ও বাঘা উপজেলা, পশ্চিমে পবা উপজেলা ও ভারতর পশ্চিমবঙ্গ। এর পাশে দিয়ে পদ্মা নদী প্রবাহিত হয়েছে।
পবা উপজেলা
পবা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। আয়তন ২৮০.৪২০ বর্গ কিঃ মিঃ (পৌরসভা সহ)। অবস্থান: ২৪°১৮´ থেকে ২৪°৩১´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°২৮´ থেকে ৮৮°৪৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এর উত্তরে মোহনপুর উপজেলা ও তানোর উপজেলা, দক্ষিণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও চারঘাট উপজেলা, পূর্বে পুঠিয়া উপজেলা ও দুর্গাপুর উপজেলা, পশ্চিমে গোদাগাড়ী উপজেলা।
পুঠিয়া উপজেলা
পুঠিয়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত রাজশাহী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা । রাজশাহী শহর থেকে পুঠিয়ার দুরত্ব মাত্র ৩২ কিলোমিটার এবং নাটোর থেকে ১৮ কিলোমিটার । প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ পুঠিয়ার জনবসতি হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। হাজার বছরের ইতিহাসের গতিধারা নির্ণয়কারী অসংখ্য নিদর্শন সমৃদ্ধ পুঠিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন ১৯২.৬৪ বর্গকিমি (৭৪.৩৮ বর্গমাইল)।
প্রাচীন জমিদার বাড়ীর জন্য পুঠিয়া বিখ্যাত।এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ঐতিহাসিক মন্দির রয়েছে। রাজশাহীর বিখ্যাত জনহিতৈষী পুঠিয়া রাজ পরিবারের হিন্দু জমিদার রাজাদের দ্বারা মন্দিরগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পুঠিয়ার জমিদার/রাজাগণ প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য এবং ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্নের জন্য বিভিন্ন স্থাপত্য কাঠামো ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্দির নির্মাণ করেন, যা আজও কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে আছে।
পুঠিয়ায় অবস্থিত অধিকাংশ মন্দিরে পোড়ামাটির ফলক স্থাপিত আছে। এখানকার পুরাকীর্তির মধ্যে পাঁচআনি রাজবাড়ী বা পুঠিয়া রাজবাড়ী, চারআনি রাজবাড়ী ও ১৩টি মন্দির রয়েছে। পুঠিয়ার প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে ১৪টি স্থাপনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করেছে। এই উপজেলার উত্তরে দুর্গাপুর উপজেলা ও বাগমারা উপজেলা, দক্ষিণে চারঘাট উপজেলা ও বাঘা উপজেলা, পূর্বে নাটোর সদর উপজেলা, পশ্চিমে দুর্গাপুর উপজেলা ও পবা উপজেলা। তাহেরপর থেকে পুঠিয়া ১৪কিলোমিটার
আরও পড়ুনঃ

