রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহঃ পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর রাজশাহী। আম ও রেশমী বস্ত্রের জন্যে বিখ্যাত রাজশাহী জেলা রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় শহর। প্রাচীন বাংলার ইতিহাস সমৃদ্ধ এই রাজশাহী শহরে রয়েছে বিখ্যাত মসজিদ, মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসমূহ। 

রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

পদ্মার তীরের এই শহরের পর্যটকদের জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থানের মধ্যে রয়েছে বাঘা মসজিদ, পুঠিয়া রাজবাড়ি, পদ্মার পাড়, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শিশু পার্ক, হাওয়াখানা, পদ্মা গার্ডেন, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দ্বিগ্রাম খেজুরতলায় প্রায় ৪০ বিঘা জায়গার উপর ২০১২ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে সাফিনা পার্ক (Safina Park)। গোদাগাড়ী থেকে সাফিনা পার্কের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। উপজেলার একমাত্র এই বিনোদন কেন্দ্রটি প্রায় ২ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৮ সালে পুনরায় চালু করা হয়। নতুন বিনোদন আয়োজনে সাজানো সাফিনা পার্কটি সব বয়সী দর্শনার্থীদের কাছে চিত্তবিনোদন ও পিকনিক স্পট হিসেবে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

নানারকম ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ দিয়ে ঘেরা পার্কের ভিতরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা ও কৃত্রিম উপায়ে তৈরিকৃত বিভিন্ন পশু পাখির আকর্ষণীয় ভাস্কর্য। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন, থ্রিডি সিনেমা এবং কিডস স্পোর্টস জোন। দর্শনার্থীরা ইচ্ছে করলে পার্কের ভিতরে বিদ্যমান দুইটি লেকে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে পারেন। অনুমতি সাপেক্ষে লেকে মাছ ধরার সুযোগ রয়েছে। যেকোন অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য সাফিনা পার্কে ২ টি পিকনিক স্পট, কনফারেন্স রুম এবং মঞ্চের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া আগত দর্শনার্থীদের কেনাকাটার সুবিধার্থে পার্কের অভ্যন্তরে একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।

 

রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ
সাফিনা পার্ক

 

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচী

সাফিনা পার্কে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে প্রবেশ করা যায়।

কিভাবে যাবেন

সাফিনা পার্কে যেতে হলে প্রথমে রাজশাহী আসতে হবে। ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে রাজশাহী যাওয়া যায়। ঢাকা হতে সড়ক, রেল এবং আকাশ পথে রাজশাহী যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী, আব্দুল্লাপুর এবং কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী, হানিফ, বাবলু এন্টার প্রাইজ, গ্রিনলাইন ও দেশ ট্র্যাভেলসের মতো এসি বা নন এসি বাসে রাজশাহী যাওয়া যায়। বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা।

ট্রেনে কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে সিল্কসিটি, ধুমকেতু, বনলতা বা পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী যাওয়া যায়। শ্রেণী ভেদে জনপ্রতি ট্রেন টিকেটের মূল্য ৩৪০ থেকে ১২২৩ টাকা। এছাড়া প্রয়োজন ভেদে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ও নভোএয়ারের ফ্লাইটে চড়ে রাজশাহী যেতে পারবেন।

রাজশাহী শহর থেকে স্থানীয় বিভিন্ন পরিবহণ যেমন বাস, সিএনজি বা অটোরিকশায় চড়ে গোদাগাড়ীর জিরো পয়েন্ট হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাফিনা পার্কে পৌঁছাতে পারবেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

কোথায় থাকবেন

সাফিনা পার্কের বিলাসবহুল রেস্ট হাউজে অগ্রিম বুকিং দিয়ে থাকতে পারবেন। এছাড়া রাজশাহীতে রাত্রিযাপনের জন্য হোটেল গ্রিন সিটি ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল স্টার ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল, মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল ও পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল সহ বেশকিছু ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন

সাফিনা পার্কের রেস্টুরেন্ট খাওয়া দাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গোদাগাড়ীতে তৈমুর, বিসমিল্লাহ ও রহমতুল্লা হোটেলের মতো কিছু সাধারণ মানের খাবারের হোটেল খুঁজে পাবেন। আর রাজশাহী শহরের রেস্তোরাঁগুলোতে ফাস্টফুড, চাইনিজ, বাংলা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের খাবারের ব্যবস্থা আছে।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

খেজুরতলা থেকে সাফিনা পার্কে যাওয়ার পথে রাস্তার দুইপাশে সবুজের সমাহার ও পদ্মা নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্য বেশ উপভোগ্য, সুযোগ থাকলে তা হাতছাড়া করবেন না। রাজশাহীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, শিশু পার্ক, বাঘা মসজিদ, পুটিয়া রাজবাড়ী ও কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা অন্যতম।

উৎসব পার্ক-রাজশাহী

২০১৪ সালে রাজশাহী জেলার বাঘা থানার অদূরে বাজুবাঘা এলাকার ৮০ বিঘা জমি নিয়ে যাত্রা শুরু হয় উৎসব পার্কের(Utshab Park)। প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর আগমনে মুখরিত হচ্ছে এই বিনোদন পার্কটি। বাঘাসহ আশেপাশের অন্যান্য এলাকা চারঘাট, লালপুর, পুঠিয়া থেকে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসছেন পার্কটিতে।

বর্তমানে ৮ টি রাইড রয়েছে পার্কটিতে। রাইডগুলোর মধ্যে ট্রেন, নাগর দোলা, পা চালিত নৌকা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি রাইড ফি ১০ টাকা। শীঘ্রই আরো কিছু রাইড যোগ করা। নির্মল আনন্দ-বিনোদনের জন্য শিশু, যুবক কিংবা বৃদ্ধ সবাই ভিড় জমান পার্কটিতে।

প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে খুলে দেওয়া হয় উৎসব পার্ক। বন্ধ হয় সন্ধ্যা ৬ টায়।

প্রবেশ ফি ২০ টাকা।

 

রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ
উৎসব পার্ক-রাজশাহী

 

পদ্মার তীর ঘেঁষা এক সময়ের রেসকোর্স ময়দানের ৩২.৭৬ একর জায়গা জুড়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব মাত্র ৪.২ কিলোমিটার। ১৯৭২ সালে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জাম সড়কের কাছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৭৪-৭৬ সালে রাজস্ব বিভাগের অনুমতিক্রমে এখানে চিড়িয়াখানার পাশাপাশি একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ফলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানাটি শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা (Shaheed A.H.M. Kamruzzaman Central Park & Zoo) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

চিড়িয়াখানার প্রধান প্রবেশ গেইটে বিদ্যমান জিরাফের বিশাল ভাস্কর্য ও মৎস্য কুমারীর ফোয়ারা নজরে পড়ে। নানারকম ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের ছায়া ঘেরা পার্কের ভিতরে আছে বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য ও নান্দ্যনিক ব্রিজ সহ একটি ছোট্ট লেক। চিড়িয়াখানায় উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে বাজরিকা, বালিহাস, ঘোড়া, হরিণ, উদবিড়াল, অজগর সাপ, কুমির সহ বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ পশুপাখি। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই উদ্যানের কৃত্রিম পাহাড় থেকে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া পার্কে দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের জন্য প্যাডেল বোট, নাগর দোলা সহ বেশকিছু আকর্ষণী রাইড রয়েছে।

আরও পড়ূনঃ

রাজশাহী শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার

১ thought on “রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ”

Leave a Comment